শান্তির পায়রা আজ নির্বাসিত। অশান্তির দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। পান থেকে চুন খসলেই জ্বলে উঠছে মরণঘাতী যুদ্ধের আগুন। তবে এই যুদ্ধ আর কেবল সামনাসামনি লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই; মানুষ আজ উদ্ভাবন করেছে সভ্যতা ধ্বংসের অত্যাধুনিক সব কলাকৌশল।
মানুষের হাতে তৈরি সেই ধ্বংস ও উন্মত্ততার বিভৎস কায়দাকানুনগুলোই উঠে এসেছে ‘আধুনিক যুদ্ধকৌশল সিরিজ’-এর পাঁচটি অনবদ্য বইয়ে!





আমরা এমন এক যুগে এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে যুদ্ধের শব্দ আর গোলাগুলির ধ্বনি সবসময় শোনা যায় না—তবুও যুদ্ধ চলছে, অবিরাম, অদৃশ্য এবং গভীরতর। এই যুদ্ধের ময়দান আর সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ছড়িয়ে পড়েছে আমাদের ঘরে, আমাদের ব্যবহৃত যন্ত্রে, আমাদের নির্ভরতার প্রতিটি স্তরে। বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি—সবকিছুর শিরায় শিরায় আজ প্রবাহিত হচ্ছে ডিজিটাল প্রযুক্তি, আর সেই শিরাগুলোতেই নীরবে আঘাত হানছে এক নতুন ধরনের শক্তি—সাইবারযুদ্ধ।
এই বইটি সেই অদৃশ্য যুদ্ধের এক শীতল, কিন্তু বাস্তব প্রতিচ্ছবি। এখানে আমরা দেখি কীভাবে একটি কোড, একটি দুর্বলতা, কিংবা একটি অজানা ম্যালওয়্যার মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বব্যাপী বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ২০১৭ সালের সেই ভয়াল দিনে, যখন নটপেটিয়া আক্রমণ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে হাসপাতাল, বন্দর, কারখানা এবং আর্থিক ব্যবস্থাকে অচল করে দিয়েছিল, তখন মানবসভ্যতা প্রথমবারের মতো উপলব্ধি করেছিল—একটি অদৃশ্য আঘাত কতটা দৃশ্যমান ধ্বংস ডেকে আনতে পারে।
এক সময় যুদ্ধ মানেই ছিল সীমান্তে সৈন্যদের মুখোমুখি সংঘর্ষ, ট্যাঙ্কের গর্জন আর বন্দুকের শব্দ। কিন্তু সেই চিরচেনা রণক্ষেত্র এখন বদলে গেছে আমূল। আজ হাজার মাইল দূরের একটি কক্ষে বসেই একটি জয়স্টিকের স্পর্শে ধ্বংস করে দেওয়া যাচ্ছে একটি শহর—আর আকাশে নিঃশব্দে চক্কর কাটছে এমন এক জোড়া চোখ, যা কোনো মানুষের নয়, বরং এক নির্দয় যান্ত্রিক ঘাতকের।
ড্রোন ওয়ারফেয়ার এখন শুধু প্রযুক্তির উৎকর্ষ নয়; এটি আধুনিক যুদ্ধের এক নির্মম ও অস্বস্তিকর বাস্তবতা। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত আকাশ থেকে ইউক্রেনের রক্তাক্ত প্রান্তর—সবখানেই ড্রোন বদলে দিচ্ছে যুদ্ধের নিয়ম, কৌশল এবং শক্তির ভারসাম্য। গোয়েন্দাগিরি, নজরদারি থেকে শুরু করে নিখুঁত লক্ষ্যভেদী হামলা—একটি ছোট, সস্তা ড্রোনও আজ কোটি টাকার ট্যাঙ্ক বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অচল করে দিতে পারে।
প্রখ্যাত যুদ্ধ সাংবাদিক ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সেথ জে. ফ্রান্টজম্যান দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধক্ষেত্রের ভেতর থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন এই প্রযুক্তির উত্থান। এই বইয়ে তিনি তুলে ধরেছেন ড্রোন যুদ্ধের নেপথ্যের ইতিহাস, এর বিস্ময়কর ক্ষমতা, এবং সেইসঙ্গে এমন এক ভবিষ্যতের ইঙ্গিত—যেখানে যুদ্ধ হবে আরও নিঃশব্দ, আরও দ্রুত, এবং আরও ভয়ঙ্কর।
আপনি যা ভাবছেন, তা কি আসলেই আপনার নিজের চিন্তা? নাকি আপনার অজান্তেই কেউ আপনার মগজে ঢুকিয়ে দিয়েছে বিশেষ কোনো ধারণা? বর্তমান পৃথিবীতে যুদ্ধের ময়দান এখন আর শুধু ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই; আধুনিক রণকৌশলের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র এখন আপনার হাতের স্মার্টফোন আর চোখের সামনে ভেসে ওঠা নিউজফিড।
প্রোপাগান্ডা ওয়ারফেয়ার কেবল মিথ্যে বলা নয়, বরং সত্য আর মিথ্যার পার্থক্য মুছে দেওয়ার এক জটিল মনস্তাত্ত্বিক খেলা। এখানে মিসাইল ছোড়া হয় না, বরং ছোড়া হয় এমন সব তথ্য যা বদলে দেয় একটি জাতির বিশ্বাস, ঘৃণা আর ভালোবাসা। সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম থেকে শুরু করে টেলিভিশনের টকশো—সবই এখন এই অদৃশ্য যুদ্ধের অংশ। আপনার অবচেতন মনকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় আপনি কি একজন স্বাধীন চিন্তক, নাকি কোনো অদৃশ্য শক্তির হাতের পুতুল?
বিশ্বখ্যাত প্রোপাগান্ডা বিশেষজ্ঞ পিটার পোমেরান্তসেভ এই বইয়ে উন্মোচন করেছেন আধুনিক তথ্যযুদ্ধের এক ভয়ংকর জগত।
একটি বিশালদেহী কুকুর কি এক কামড়ে একটি ক্ষুদ্র মাছির (Flea) সাথে যুদ্ধ করে জিততে পারে? কুকুরের কামড় যেখানে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, সেখানে ছোট মাছিটি অনবরত কামড়ে কুকুরকে রক্তক্ষরণ করিয়ে শেষ পর্যন্ত পরাজিত করে। গেরিলা যুদ্ধের এই অমোঘ দর্শন নিয়েই রবার্ট তাবেরের কালজয়ী বই— দ্য ওয়ার অফ দ্য ফ্লি।
গেরিলা ওয়ার কেবল কিছু বিচ্ছিন্ন সশস্ত্র হামলা নয়; এটি হলো শক্তির দম্ভ আর প্রথাগত সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে শোষিত মানুষের এক অবিরাম প্রতিরোধের গল্প। যখন আধুনিক মারণাস্ত্র আর সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের লড়াই করার কোনো পথ থাকে না, তখনই জন্ম নেয় গেরিলা যুদ্ধের এই নীল নকশা। ভিয়েতনাম থেকে কিউবা, কিংবা আফ্রিকা থেকে লাতিন আমেরিকা—পৃথিবীর যেখানেই মানুষ দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সেখানেই কাজ করেছে এই বইয়ে বর্ণিত ‘ফ্লি’ বা মাছির মতো অদৃশ্য কামড় দেওয়ার কৌশল।
রবার্ট টেবার এই বইয়ে উন্মোচন করেছেন গেরিলা যুদ্ধের নেপথ্যের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের সাথে এই লড়াইয়ের আত্মার সম্পর্ক।
যদি আজ এই মুহূর্তে একটি পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়, তবে পরবর্তী ৭২ মিনিটে পৃথিবীর অবস্থা কী হবে? এটি কোনো কল্পকাহিনী নয়, বরং এক রূঢ় ও শীতল বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা।
নিউক্লিয়ার ওয়ার কোনো সাধারণ যুদ্ধ নয়, এটি মানবতার চূড়ান্ত বিলুপ্তির এক নীল নকশা। এই বইয়ে অ্যানি জ্যাকবসেন ধাপে ধাপে দেখিয়েছেন, একটি ভুল সিদ্ধান্ত বা একটি বোতামের চাপ কীভাবে কয়েক মিনিটের মধ্যে কোটি কোটি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে এবং কয়েক বিলিয়ন বছরের সভ্যতাকে মুহূর্তেই ছাই করে দিতে পারে। ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে পাল্টা হামলা—প্রতিটি সেকেন্ডের হিসাব এখানে দেওয়া হয়েছে শ্বাসরুদ্ধকরভাবে।
পারমাণবিক যুদ্ধের পর কোনো বিজয়ী থাকবে না, থাকবে শুধু ধ্বংসস্তূপ। এটি এমন এক যুদ্ধের গল্প যা শুরু হওয়ার আগেই সব শেষ করে দেয়। আপনি কি সেই ৭২ মিনিটের ভয়াবহতার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত?
১. সাইবার ওয়ার, পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩৬৮।
২. ড্রোন ওয়ার, পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৮০।
৩. প্রোপাগান্ডা ওয়ার, পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৭৬।
৪. গেরিলা ওয়ার, পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৯২।
৫. নিউক্লিয়ার ওয়ার, পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩৫২।
বইগুলোর মুদ্রণে উন্নত মানের অফ হোয়াইট ক্রিম কালারের কাগজ ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির বাঁধাইয়ের সাথে সাথে হার্ড বোর্ডের উপর ডাবল লেয়ার জ্যাকেট কভার ব্যবহৃত হয়েছে।
কওমি মার্কেট, নিচ তলা ২১ নং শপ, ৬৫/১ প্যারিদাস রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০।
01768864428
না, একটাকাও পেমেন্ট করতে হবে না। সরাসরি ডেলিভারি ম্যানের হাত থেকে বইটি সংগ্রহ করার পরই মূল্য পরিশোধ করবেন।
তবে অনুরোধ থাকবে নিশ্চিত হয়েই বইটি অর্ডার করবেন। অর্ডারের পর ডেলিভারি চলে গেলে ফিরিয়ে দিলে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়।
ঢাকার ভেতরে হলে ১-২ দিন এবং ঢাকার বাইরে হলে ২-৩ দিন সময় লাগতে পারে, যদি আকস্মিক কোনো সমস্যা না হয়।